প্রিয় বাবা-
কতদিন হয়ে গেলো তোমার স্পর্শ পাই না…
কত দিন দেখি না তোমায়, কত রাত দেখি না তোমায়
সে খোঁজ কি তুমি রাখো?…
প্রতিটা সেকেন্ড, প্রতিটা মিনিট, প্রতিটা দিন, প্রতিটা মুহুর্ত তোমাকে খুব মিস করছি বাবা…
কতদিন হয়ে গেলো তুমি আমার কোন প্রশ্নের কোন উত্তর দাওনা… তাই আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখছি!
জানো বাবা কোনোদিন দুঃ’স্বপনেও ভাবিনি তোমাকে কোনোদিন আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখবো, কিন্তু আজ নিরুপায় হয়ে লিখতে হচ্ছে,
জানি বাবা তুমি খুব ভালো আছো, সৃষ্টিকর্তার নিকট
যে শান্তি চাইতে চাইতে তুমি চলে গেছো, নিশ্চয়ই তুমি সে শান্তিতেই আছো! তাই তুমি একটি বার স্বপ্নেও দেখা দাও না, আর আমার শত শত প্রশ্নের কোন উত্তরও দাও না, কিন্তু! বাবা আমি যে ভালো নেই, তোমাকে ছাড়া খুব ক’ষ্টে আছি।
বাবা, অন্য আর পাঁচজন ছেলে-মেয়ের মতো তোমার মেয়ে হয়ে আমি কখনো বলবো না– “বাবা তুমি থাকতে বুঝিনি, তুমি কি ছিলে জীবনে”, “বাবা নামক বটবৃক্ষ কি হয়”!
তুমি থাকতেই আমি বুঝেছিলাম বাবা নামক বটবৃক্ষের ছায়া কেমন হয়, বাবা শব্দের গভীরতা কতটা, পৃথিবীর সবচেয়ে অমূল্য সম্পদের নাম বাবা, তাই আমি আমার কর্তব্য পালনের চেষ্টা করেছি মাত্র, কতটুকু পেরেছি তা তুমিই ভালো জানো, সেটা আমার জানার দরকার নেই, আমি শুধু জানি আমি ব্য’র্থ সন্তান, কারণ! আমি তোমাকে ধরে রাখতে পারিনি।
সৃষ্টিকর্তার কাছে সব সময় একটাই জিনিস চাইতাম আমার মৃ’ত্যুর আগে যেন তোমাদের কারো কিছু না হয় কিন্তু! সৃষ্টিকর্তা আমার কথা শুনলেন না, তিনি আমার আগেই তোমাকে নিয়ে নিলেন, সৃষ্টিকর্তা দানশীল হতে পারলেন না। বড্ড অসময়ে তোমাকে হারিয়ে ফেললাম।
কেনো এত রা’গ করে আছো বাবা? কেনো কোন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছ না? কোন পূর্বাভাস ছাড়া হুট করে কেনো তুমি ফাঁকি দিলে? তোমার কিসের এত তাড়া ছিলো যে তুমি এত তাড়াতাড়ি আমাদের এতিম করে দিলে?
তুমি তো ছোট বেলা থেকে খুব ভালো করেই জানতে একজন এতিমের ক’ষ্ট কতটা তী’ব্রতর, তবে কেনো আমাদেরও সে ক’ষ্টের ভাগিদার তুমি এত তাড়াতাড়ি করলে? আচ্ছা বাবা আর কটা দিন থাকলে কি এমন ক্ষ’তি হতো শুনি!?
বাবা, বুকের বাম পাশটায় খুব করে লাগে যখন হৃদয়খানি উজাড় করে বাবা বলে তোমায় ডাকতে পারি না, ডাকতে গিয়েই হটাৎ করে এক বি’ষা’দ শূ’ন্য’তা অনুভব করি, ছুঁতে গিয়েও ছুঁতে পারি না, তুমি মিলিয়ে যাও ভোরের তারায়, রাতের তারায়…তুমি কি সে খোঁজ রাখো?
তুমি কি দেখতে পাও? পুরো বাড়ি জুড়ে তোমার সব পোশাক নানান জিনিস পত্র ও ঔষধের বক্সটা আজও স্ব স্ব স্থানে আছে শুধু তুমি নেই বাবা শুধু তুমি নেই….
জানো বাবা বুকের ভেতরটা রোজ ভে’ঙ্গে’চু’রে একাকার হয়, তুমি ছাড়া এ দেহটা যেন পাখি ছাড়া খাঁচা হয়ে গেছে, পৃথিবীতে বেঁ’চে থাকাটাই যে এখন ক’ষ্ট’কর, তবুও বেঁ’চে আছি, জীবন আর ম’র’ণের মাঝামাঝি!
শেষ হয়েও শেষ হলো না কথা, সব কথা লেখা গেলো না চিঠিতে… অনেক কথা রয়ে গেলো বাবা হৃদয়ের অন্তরালে…
তোমার অনুপস্থিতিটা আজও আমি মেনে নিতে পারি না আর ভবিষ্যতেও কোনোদিন পারবো না।….
ইতি
তোমার স্নেহের রোমিও
কলমেঃ রাজিবুল করিম রোমিও