ঢাকা   ১৯শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ । ৪ঠা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

হিজরি সনের গুরুত্ব নিয়ে যা বললেন মাওঃ নিজাম উদ্দিন আশ্রাফি

প্রতিবেদকের নাম
  • প্রকাশিত : সোমবার, জুলাই ৮, ২০২৪
  • 79 শেয়ার

এস,এম,নাদিরুজ্জামান আজমল, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: 

 

হিজরি সন হচ্ছে মুসলমানদের সন মুসলমানদের উচিত হিজরি সনের অনুসরণ করা। হিজরি সনের প্রথম মাস হলো মহররম। মুসলিম জীবনে হিজরি সন ও তারিখের গুরুত্ব অপরিসীম। এটি সম্মানিত চার মাসের মধ্যে অন্যতম একটি মাস।তিনটি হলো লাগাতার যিলক্বদ, যিলহজ্জ ও মহররম আর একটা আলাদা অর্থাৎ রজব।নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট আল্লাহর কিতাবে গণনার মাস বারটি।আসমানসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকে।তন্মধ্যে চারটি সম্মানিত। ইহাই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান। সুতরাং এই মাসগুলোতে পাপাচার করে নিজেদের উপর জুলুম করো না। (সূরা তাওবা-আয়াত ৩৬)

তিনিই সূর্যকে তেজেস্কর ও চন্দ্রকে জ্যোতির্ময় করেছেন এবং উহার মানযিল নির্দিষ্ট করেছেন যাতে তোমরা বছর গনণা ও সময়ের হিসাব জানতে পার। (সূরা ইউনুস -৫) হিজরি সন এমন একটি সন,যার সাথে মুসলমানদের নামাজ, রোজা, হজ্জ, যাকাত, ঈদ-উল- ফিতর, ঈদ-উল-আযহা, ঈদে মিলাদুন্নবী (দঃ), লাইলাতুল মে’রাজ, লাইলাতুল বরাত, লাইলাতুল ক্বদর, আশুরাসহ সকল ধর্মীয় উৎসব পালন করতে হয় হিজরি তারিখ তথা চাঁদের হিসেবের উপর। তাই হিজরি সন সমগ্র মুসলিম জাতির জন্য এক বিশেষ স্মারক। ঈসায়ী নববর্ষ,কিংবা বাংলা নববর্ষকে যে ভাবে গুরুত্ব তথা আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে উদযাপন করা হয়। হিজরি নববর্ষ গুরুত্ব সহকারে উদযাপন করা হয় না। হিজরি নববর্ষের অবহেলা দেখে মনে হয় হিজরি নববর্ষের যেন আমাদের কোন প্রয়োজনই নেই। অথচ মুসলমানদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় সকল আচার অনুষ্ঠান ও ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধি-বিধান বা ইবাদত এই হিজরি তারিখের উপর নির্ভরশীল। হিজরি নববর্ষকে আমাদের মুসলিম দেশে গুরুত্বসহকারে উদযাপন করা প্রয়োজন।বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর কৃষ্টি-কালচারে হিজরি সনের গুরুত্ব অনেক। রাসূল (দঃ)পবিত্র মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের বছর থেকেই হিজরি সনের সূচনা।

ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর (রাঃ)’র খিলাফতের সময় গোটা আরব ভূখণ্ড ইসলামী খিলাফতের অন্তর্ভুক্ত হয়। ইরাক এবং কুফার গভর্নর হযরত আবু মূসা আশআরী (রাঃ) একটি পত্রে খলিফা হযরত উমর (রাঃ) কে জানান,আপনার পক্ষ থেকে যেসব চিঠি আমাদের নিকট পৌঁছে তাতে দিন, মাস, কাল তারিখ উল্লেখ না থাকায় কোন টা কোন দিনের, কোন বছরের চিঠি তা নিরুপণ করা আমাদের জন্য সম্ভব হয় না। এতে করে নির্দেশ কার্যকর করতে সমস্যা হয়। অনেক সময় আমরা বিব্রত বোধ করি চিঠির ধারাবাহিকতা না পেয়ে।

হযরত আবু মূসা আশআরী (রাঃ)’র চিঠি পেয়ে হযরত উমর (রাঃ) এ মর্মে পরামর্শ সভার আয়োজন করে বলেন, এখন থেকে ইসলামী তারিখ প্রবর্তন করতে হবে। সভায় কোন কোন সাহাবী নবিজীর ইন্তেকালের বছর, কোন কোন সাহাবী নবুয়তের বছর, হযরত আলী (রাঃ) নবিজীর হিজরতের বছর থেকে বর্ষ গণনার প্রস্তাব দেন।তারপর সবাই হযরত আলী (রাঃ)’র প্রস্তাবে ঐক্যমত পোষণ করেন। হিজরতের ১৬ বছর পর ১০ জুমাদাল উলা মোতাবেক ৬৩৮ খ্রি. হিজরি সন প্রবর্তনের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। (আল আইনী, উমদাতুল ক্বারি, ১৭/৬৬) হিজরি সন গণনা শুরুর জন্য নবিজী (দঃ)’র জন্ম,মৃত্যু নবুয়ত ও হিজরত এই চারটি প্রস্তাব এসেছিল।জন্ম ও নবুয়ত নিয়ে বিভিন্ন মতামত আছে।আর মৃত্যু শোকের স্মারক।নবিজীর হিজরত থেকে হিজরি সন গণনা শুরু করা হয়।(ইবনে হাজার আসকালানি, ফতহুল বারি, ৭/২৬৮) তৎকালে আরবে অনুসৃত প্রথা অনুযায়ী পবিত্র মহররম মাস থেকে বর্ষ শুরু করার ও যিলহজ্জ মাস সর্বশেষ মাস হিসেবে নেওয়ার পরামর্শ প্রদান করেন।(বুখারী ও আবু দাউদ)

হযরত উমর (রা.)হিজরতের বছর থেকেই ইসলামী দিনপুঞ্জী গণনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। হিজরি বর্ষ বা সন গণনার প্রবর্তন হয় খলিফা হজরত উমর ফারুক (রা.)’র খিলাফতের সময় থেকে।তাই সর্ব ক্ষেত্রে হিজরি তারিখকে গুরুত্ব দেয়া প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য। আল্লাহ ১৪৪৬ হিজরি বছরটি আমাদের জন্য কল্যাণ এবং শান্তিময় করে দিন -আমিন। মাওলানা মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন আশরাফী দপ্তর সম্পাদকঃ সুন্নী ইমাম ও উলামা পরিষদ,অষ্টগ্রাম উপজেলা। ইমাম ও খতিবঃ পূর্ব কলাপাড়া গাউছিয়া জামে
মসজিদ, মধ্য অষ্টগ্রাম, কিশোরগঞ্জ।

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৪