ঢাকা   ২১শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ । ৭ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
নরসিংদীর নজরপুরে উপজেলা নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় আহত- ২০ গোপালগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ ভূমধ্যসাগরে মৃত ১১ জনের মধ্যে ০২ জনের বাড়ি মাদারীপুরে নীলফামারীর বাসীদের সচেতন হওয়ার প্রয়োজন নওগাঁ সিদ্দিকিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা ৫০ বছর পূর্তি ও পূর্ণমিলনী অনুষ্ঠান চট্টগ্রাম বিভাগ সহ সারা বাংলাদেশ ৫/৭ জেলায় দেখা মিলল এই রাসেল ভাইপার সাপ ভোলার শশীভূষণে বজ্রপাতে এক শ্রমিকের মৃত্যু মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখায় জেলা প্রশাসকের বন্যার্তদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ নবীগঞ্জে ভয়াবহ বন্যা,শতাধিক গ্রাম প্লাবিত পাইকগাছা ও কয়রায় বজ্রপাতে- ০৩ জনের মৃত্যু আহত- ০১

সুন্দরিবালা ১৯৭১ সালে চুকনগর গ্রামে গণহত্যায় বেঁচে যাওয়া সেই শিশু অতঃপর

প্রতিবেদকের নাম
  • প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, মার্চ ৭, ২০২৪
  • 41 শেয়ার

উজ্জ্বল কুমার সরকার, খুলনা প্রতিনিধি: 

সুন্দরিবালা একাত্তরে চুকনগর গণহত্যায় বেঁচে যাওয়া সেই শিশু আজ অতঃপর সময়টা ১৯৭১ সালের ২০ মে। খুলনা জেলার চুকনগর গ্রাম, ভদ্রা নদীর পাড়। মুক্তিযুদ্ধের সবচেয়ে বর্বরতম গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল এখানে। একসঙ্গে ১০ হাজার হিন্দু -মুসলমান নর-নারী ও শিশুকে সেদিন হত্যা করেছিল পাকিস্তান বাহিনী। পাকিস্তানের দোসর এদেশীয় রাজাকার, আলবদর, আলসামস বাহিনী সেই নৃসংশ হত্যাযজ্ঞে সরাসরি সহযোগিতা করেছিল। চুকনগরের প্রতিটি বাড়ি থেকে সব বয়সের নারী-পুরষকে ধরে এনে দাঁড় করিয়েছিল একটি মন্দিরের সামনে। সেদিন সেই মন্দিরের উঠোন শ্মশানে পরিণত হয়। হত্যাযজ্ঞের একদিন পর সেই শ্মশানে লাশের স্তুপে নিজের পিতাকে খুঁজতে আসেন গ্রামের এক সাধারণ কৃষক এরশাদ আলী মোড়ল।অনেক পুরুষ মহিলার লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। তিনি তার পিতার লাশ না পেয়ে চলে যাওয়ার সময় একটি শিশুর কাঁন্নার শব্দ শুনে তিনি থমকে দাঁড়ালেন। পেছনে ফিরে এসে দেখেন যে, মহিলাদের লাশ পড়ে আছে তাঁর মধ্যে একজন মহিলার বুকের উপর হামাগুরি দিয়ে একটি শিশু দুধ পানের চেষ্টা করছে। তিনি শিশুটিকে কোলে তুলে নিলেন এবং মহিলাটির দিকে তাকালেন। দেখলেন মহিলাটির হাতে ধবধবে সাদা শাঁখা মাথায় রক্তরাঙা সিঁদুর। বুঝতে বাকি রইলো না মহিলাটি সনাতন ধর্মের। শিশুটির বয়স আনুমানিক ৬ মাস। কণ্যাশিশু। তিনি বাড়ীতে নিয়ে গেলেন। সনাতন ধর্মের সাথে মিল রেখে নাম রাখলেন রাজকুমারী সুন্দরীবালা। ঘরের কোনে ঠাকুরঘর উঠানে তুলসী গাছ এবং শেখানো হয় গীতা পাঠ। একই ঘরে মাগরিবের আযান ও উলু ধ্বনি একাকার হয়। এ যেনো মানুষ ও মনবতার এক অমর গাঁথা দৃষ্টান্ত। রাজকুমারী সুন্দরীবালা ধীরে ধীরে বড়ো হয়ে ওঠেন। একসময় তিনি হিন্দুরীতি মেনে এক হিন্দু সম্প্রদায়ের পাত্রের কাছে তাঁর বিয়ে দেন। এই অসাম্প্রদায়িকতার দৃষ্টান্ত যিনি স্থাপন  করলেন ।

সেই মানুষটির নাম এরশাদ আলী মোড়ল।

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৪