ঢাকা   ১৯শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ । ৪ঠা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

শৈল্পিক বাসার কারিগর বাবুই পাখি বিলুপ্তির পথে

প্রতিবেদকের নাম
  • প্রকাশিত : শুক্রবার, জুন ২১, ২০২৪
  • 11 শেয়ার

শরীফ আহম্মেদ, শেরপুর প্রতিনিধি:

 

শৈল্পিক বাসার কারিগর বাবুই পাখি। এক যুগ আগেও বগুড়ার বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় সব জায়গাতেই চোখে পড়তো বাবুই পাখির বাসা। কিন্তু বর্তমান সময়ে সারিবদ্ধ তালগাছ থাকলেও বাবুই পাখির বাসা তেমন চোখে পড়ে না। তালগাছ, ডাব গাছ, খেজুর গাছেও বাবুই পাখির বাসা ঝুলতে দেখা যায় না। একসময় বাবুই পাখির কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত হতো মানুষ। কিন্তু এখন বাবুই পাখির কিচিমিচি শব্দে মুখরিত হয় না গ্রাম বাংলার জনপথ।

বাবুই পাখি হারিয়ে যাওয়ার কারণ হচ্ছে, উপযোগী পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে বাবুই পাখি। বৃক্ষ নিধন, অধিক কীটনাশকের ব্যবহার, শিকারীদের আক্রমণ, এবং অপরিকল্পিত নগরায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তন এসব কারণেই বাবুই পাখি বিলুপ্তির পথে। দৃষ্টিনন্দন ঝুলন্ত বাসা তৈরীর জন্য বাবুই পাখি বিখ্যাত। বাবুই পাখি বাসা বানানোর জন্য অনেক পরিশ্রম করে। তারা ছোন, খেজুর পাতা, ও অন্যান্য শক্ত জাতীয় ঘাস দিয়ে বাসা তৈরি করে থাকে। বাসাটি যেমনি মজবুত তেমনি আকর্ষণীয়। বাবুই পাখির বাসা শক্ত এবং মজবুত হয়ে থাকে। টানলে কখনো ছেড়ে যায় না ,এমন ভাবে বাসা তৈরি করে সহজে ছেড়ে না। অনেকে বাবুই পাখিকে তাঁতি পাখি বলে ও থাকেন।

বাবুই পাখি বিশেষ করে তাল গাছে দলবেঁধে বাসা তৈরি করে। বাবুই পাখির খাবার বিশেষ করে ফসলের বীজ, ধান, পোকা, ঘাস, ছোট উদ্ভিদ,ও ফুলের মধু, রেনু প্রভৃতি খেয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। বগুড়া শেরপুর উপজেলার মোঃ নুরুল আমিন সরকার (৯০) বাবুই পাখি বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, বাবুই পাখি একসময় আমরা দেখছি তালগাছ ডাব গাছে তারা অনেক সুন্দর ভাবে বাসা তৈরি করত । তারা যে বাসা তৈরি করতেন অনেক সুন্দর দেখা যেতো । কিন্তু এটা আর দেখা যায় না তিনি আরো বলেন, ইট ভাটার দূষণ, মোবাইল টাওয়ার, ফসলি জমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে উপাদান অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায়। এতে বাবুই পাখি প্রতিকূল পরিবেশ এবং খাদ্য সংকটে পড়ে বাবুই পাখি বিলুপ্তির পথে। তবে শঠিবাড়ী বিলের পাড়ে সারিসারি তাল গাছে বাবুই পাখি বাসা তৈরি করে রেখেছে। কিন্তু আগের মত বিকেল হলে কিচিরমিচির তেমন দেখা যায় না । এক পর্যায়ে বাবুই পাখি বিলুপ্তির পথে।

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৪