ঢাকা   ১৯শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ । ৪ঠা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

শখের বশে রঙিন মাছ চাষে সফল উদ্যোক্তা আবু রায়হান

প্রতিবেদকের নাম
  • প্রকাশিত : শুক্রবার, জুলাই ৫, ২০২৪
  • 8 শেয়ার

তপন দাস, নীলফামারী প্রতিনিধি:

 

শখের বশে রঙিন মাছ চাষ করে এখন সফল একজন তরুণ উদ্যোক্তা হয়েছে নীলফামারীর আবু রায়হান (২৮)।তরুণ এই উদ্যোক্তার বাসা নীলফামারীর সদর উপজেলার টুপামারী ইউনিয়নের রামগঞ্জ বাজার এলাকায়। শখে বশে ২০২০ সালে ৫০০ শত টাকা দিয়ে ১০ পিস মিক্সগাপ্পি মাছ কিনে বাড়ির উঠানে অল্প পরিসরে শুরু করেন বাহারি প্রজাতির এই মাছের চাষ।

প্রথমে স্বল্প পরিসরে বাহারি প্রজাতির এই মাছের চাষ শুরু করলে ও বর্তমানে ২১ টি পাকা চৌবাচ্চায় করছেন এই মাছের চাষ। ৪ বছরেই তরুণ এই উদ্যোক্তা পেয়েছেন ব্যাপক সফলতা। জানা যায় ২০২০ সালের শুরুর দিকে করোনা কালীন সময়ে বেকারত্বের সময় কাটানোর এক পর্যায়ে নীলফামারীর শহরের একটি অ্যাকোরিয়াম ফিসের দোকান থেকে ৫০০ শত টাকার দিয়ে ১০ টি ভিন্ন প্রজাতির বাহারি রঙের মাছ কিনেন। তখনো সে জানতো সেই মাছ গুলোর নাম কি। পরে জানতে পারেন সেগুলো ভিন্ন প্রজাতির রঙিন মাছ। পরে সেগুলো বালতিতে রেখে দেন। পরে ১৫ দিন পর সেই বালতির পানি পরিবর্তন করার সময় দেখতে পান কয়েকটি মাছের পেটে ডিম। পরে আবু রায়হান পেটে ডিম থাকা মাছ গুলো আলাদা একটি বালতিতে রেখে দেন। পরে সেই ডিম গুলো থেকে মাছের পোনা বাড়তে থাকে । এরপর আস্তে আস্তে বাড়ির উঠানে তৈরি করতে থাকেন চৌবাচ্চা বাড়তে শুরু করে বাহারি প্রজাতির রঙিন মাছ চাষ। কিছুদিন পর পর ডিম দিতো মাছ গুলো, ডিম দেয়ার কিছুদিনের মধ্যে বাড়তে শুরু করে মাছের পোনা। তাই বাহারি প্রজাতির রঙিন মাছের ফার্ম করার স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন তরুণ এই উদ্যোক্ত আবু রায়হান।

মাছ চাষের বিষয়ে উদ্যোক্তা আবু রায়হান এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন এমনি কিছু করার ইচ্ছে ছিল আমার যেখানে অর্থ উপার্জনের পাশাপাশি মানসিক প্রশান্তি পাওয়া যায় । আমি দেখলাম যে রঙিন মাছ চাষ আমাকে আনন্দ ও অর্থ দুটোই দিচ্ছে । ব্যবসার পাশাপাশি এটি করতে তেমন কোন কষ্ট হয় না। তাই এটি বৃহৎ পরিসরে শুরু করার চেষ্টায় আছি। এ কাজে পরিবারের সবাই আমাকে সাহায্য করে এক কথায় বলতে অনেকটা খেলার ছলেই এই ফার্ম টি আমার চলছে।

তিনি আরো বলেন এই মুহূর্তে এ প্রজেক্টে ২ লাখ টাকার সেটআপ আছে , আর আমার মাছের ফার্মে মিক্সগাপ্পি, শর্টটেইল, রেডটেইল, প্লাটিনাম ডাম্বু, ইয়ার অ্যালবাইনো কই, কই টক্সিতো, ব্লু হেড সামু রাই , রেডমক্সো, স্নাক স্কিনগাপ্পি, কোবরা, ব্ল্যাক বেলুন মলি, হোয়াইট বেলুন মলি, জেবরা, গ্লো টেট্রা,মুন টেইলমলি কই, কাপ , কমেট কাপ, এবং মিকি মাউস প্লাটি। এখানে আমার আরো ইনভেস্ট করার পরিকল্পনা আছে।

তিনি আরো বলেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আমার মাছের ফার্ম নিয়ে” রঙিন মাছের খামার নীলফামারী ” নামে একটি ফেসবুক পেজ আছে , সেখানে যোগাযোগ করে অনেকে আমার রঙিন মাছের খামার টি দেখতে আসে। চাষের সুবাদে জেলার বিভিন্ন স্হান থেকে ক্রেতারা রঙিন মাছ কিনতে আসে। এছাড়াও নীলফামারী এবং সৈয়দপুরের ব্যবসায়িরা ও আমার এখান থেকে পাইকারি দামে মাছ নিয়ে যায়। আকার ও বিভিন্ন প্রজাতি হিসেবে ১০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত মাছ বিক্রি হচ্ছে। অক্সিজেন ব্যাগে করে সারাদেশে এই সরবরাহ করা হচ্ছে । আর বর্তমানে আমার সংগ্রহে ৩০ প্রজাতির ২৫ হাজার রঙিন মাছ আছে। এসবের বাজার মূল্য ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা।

তবে তিনি অভিযোগ করে বলেন তার এই মাছের খামারে মৎস্য কর্মকর্তাদের এখন পর্যন্ত কোন সহযোগিতা পাননি। বিভিন্ন সময়ে মাছের পাখনা ও ফুলকা পচা রোগ হয় , উকুনের আঘাতে ক্ষত তৈরি হয়, সেগুলো নিজ অভিজ্ঞতায় পরিমান মতো লবণ, পটাশ, ফিটকিরি আর চুন ব্যবহার চিকিৎসা দিয়ে আসছি। সরকারি সহযোগিতা পেলে এই ফার্মের পরিধি বাড়াতে পারবো বলে ও জানান তিনি।

এবিষয়ে নীলফামারী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু সাইদ এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন পুরোপুরি আমদানিনির্ভর এখাতের অর্ধেকের বেশি চাহিদা পূরণ করেছে রায়হানের মতো তরুণরা। বিদেশে ও এর বেশ চাহিদা রয়েছে , তবে মাছ চাষে আগ্রহ বাড়াতে উদ্যোক্তাদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে।

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৪