ঢাকা   ২৬শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ । ১২ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন নবনিযুক্ত সেনাবাহিনী প্রধান বঙ্গবন্ধু লেখক সাংবাদিক ফোরাম সিলেটের ৭ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠিত বড়বাজারের মেহতা বিল্ডিং এর চারতলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড কুমিল্লায় নারী মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার কলেজ অ্যাডমিশন পোর্টালের সার্বিক অব্যবস্থার প্রতিবাদে, শ্যামবাজার থেকে কলেজ স্ট্রীট পর্যন্ত মহামিছিল করলেন বেলা বড়াইগ্রামের নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যানের শপথ গ্রহণ শেরপুরে ট্রাক্সফোর্স অভিযানে গ্যাস ডিলার পাম্প ও ক্লিনিকে জরিমানা আটপাড়ায় জিপি-এ ৫ প্রাপ্ত এসএসসি কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা বরিশালের প্রাচীন ঐতিহ্য মোঘল আমলের দৃষ্টিনন্দন মিয়া বাড়ি মসজিদ

রাজাপুরে প্রাথমিক শিক্ষক সমতির কমিটি প্রত্যাখ্যান করে সংবাদ সম্মেলন

প্রতিবেদকের নাম
  • প্রকাশিত : সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৪
  • 61 শেয়ার

ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ-
ঝালকাঠির রাজাপুরে সম্প্রতি কমিটি গঠিত রাজাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির কমিটি প্রত্যাখ্যান করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি রাজাপুর উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দরা। সোমবার বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে রাজাপুর সাংবাদিক ক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির রাজাপুর উপজেলা শাখার সভাপতি মোঃ মহসিন উদ্দিন লিখিত বক্তব্য পাঠ অভিযোগ করেন, ২০১৪ সাল থেকে রাজাপুরে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি ও প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজ নামে দুটি সংগঠন ছিল। ২০১৯ সালে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি রাজাপুর উপজেলা শাখার কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও কোন শিক্ষক এই সমিতির নেতৃত্বে না আসায় রাজাপুরের শিক্ষকদের নিয়ে এ সমিতির অধীনে একটি কাউন্সিল অধিবেশনের মাধ্যমে মহসিন উদ্দিনকে সভাপতি এবং আজাদ খানকে সেক্রেটারি নির্বাচিত করা হয়। অন্যদিকে একই সময়ে রাজাপুরে আরো একটি সহকারী ও একটি প্রধান শিক্ষক সমিতির সৃষ্টি হয় এবং তখন থেকেই শুরু হয় সাংগঠনিক বিরোধ। আমাদের পরিচালিত বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি- (৮০৮-৭৫, ১৯৬২-৬৩), সহকারী শিক্ষক সমাজ-(এস, ১২০৪৮) ও সহকারী শিক্ষক সমিতি-(১২০৬৮) নামে তিনটি সংগঠন সক্রিয় থাকে। সংসদ নির্বাচনের আগে রাজাপুরের তিন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ আলাদাভাবে এমপি মহোদয়ের সাথে সাক্ষাৎ করলে তিনি সবাইকে একত্রিত হয়ে একটি কমিটি করে তার কাছে আসার জন্য নির্দেশ দেন। সংসদ নির্বাচনের কয়েকদিন পর বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি রাজাপুর উপজেলা শাখার অর্থ সম্পাদক রেজাউল করিম মাসুম ভাই তিন সংগঠনকে একত্রিত করার উদ্যেগ নিয়ে একটি তারিখ ঘোষণা করেন। ঐ তারিখে সহকারী শিক্ষক সমাজ (১২০৪৮) সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত হলেও সহকারী শিক্ষক সমিতির (১২০৬৮) শিক্ষকরা আসেনি। কিছুদিন পর সহকারী শিক্ষকদের পক্ষ থেকে ৭৩ নং পশ্চিম ইন্দ্রপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক ওয়ালিউর রহমান বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি ও সহকারী শিক্ষক সমাজ এ দুই সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ৩ ফেব্রুয়ারী সমিতি ভবনে একটি মিটিংয়ের আয়োজন করে। মিটিংয়ে এমপি মহোদয়ের নির্দেশনা মোতাবেক সকল সংগঠনের সক্রিয় ও ত্যাগী শিক্ষকদেরকে নিয়ে একটি মাত্র কমিটি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ১০ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী মিটিং হবে বলে তারিখ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু ৩ তারিখের ঐ সভাটি ছিল ষড়যন্ত্র ও উদ্দেশ্যমূলক। ঐ তারিখে মিটিং হওয়ার আগেই গোপনে একটি পকেট কমিটি করেছে সে বিষয় আমরা অবহিত ছিলাম না। আমরা বুঝতে পারলাম যে ৩ তারিখে কমিটি গঠনের যে মিটিং হয়েছিল সেটা ছিল শুধুমাত্র “আইওয়াশ”। আমাদের সাথে একত্রে প্রথম দফায় বৈঠক করার বিষয়টিকে তারা মাননীয় এমপি মহোদয়, সকল শিক্ষক ও সাধারনের কাছে প্রচার করেছে যে, তারা সব সংগঠনের নেতৃবৃন্দ একত্রিত হয়েছে, শিক্ষক নেতাদের মধ্যে আর কোন বিভেদ নেই। এহেন উদ্দেশ্যমূলক কাজটি করার ক্ষেত্রে তারা সকল সাধারন শিক্ষককে পক্ষে আনার জন্য মাননীয় এমপি মহোদয়ের নাম ব্যবহার করেছে এবং বলেছে আমরা রাজাপুরের সকল শিক্ষক একত্রে একটি কমিটি করতে যাচ্ছি। তাদের ডাকে কোন শিক্ষক যদি না আসতে চাইলে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। ১০ ফেব্রæয়ারি মিটিং করে একটি কমিটি করার কথা থাকলেও সেটা তারা উদ্দেশ্য মূলকভাবে করেনি। ১১ ফেব্রুয়ারি কোনো এক মাধ্যমে আমাদের হাতে আসে একটি পকেট কমিটির তালিকা। যে কমিটিতে সাংগঠনিক দূরদর্শিতাহীন, অসাংগঠনিক, শিক্ষক কল্যানে কাজ না করা এক প্রধান শিক্ষক কবির হোসেন কে সভাপতি ও সহকারী শিক্ষক ওয়ালিউল ইসলামকে সাধারন সম্পাদক করে রেজিস্ট্রেশন ও গঠনতন্ত্র বিহীন “রাজাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি” নামে ৭১ সদস্য বিশিষ্ট একটি পকেট কমিটি গঠন করে। যে কমিটির কয়েকটি গুরুত্বহীন পদে আমাদের সমিতির কয়েকজনের নামও দেখা যায়, যা ঐ শিক্ষকরা জানে না। পকেট কমিটির তালিকা হাতে পাওয়ার পর বুঝতে পারলাম দেশের সবচেয়ে পুরাতন সংগঠন বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি, রাজাপুর শাখার নেতৃবৃন্দদের বাদ দিয়ে যখন এ কমিটি করা হয়েছে তখন ১২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা গিয়ে মাননীয় এমপিকে বিষয়টি অবহিত করি। পরবর্তীতে তারা ১৪ ফেব্রুয়ারি সমিতি ভবনে হঠাৎ একটি মিটিং আহবান করে পূবের করা পকেট কমিটির তালিকা অনুযায়ী কবির হোসেন নামে এমন এক প্রধান শিক্ষককে সভাপতি ও ওয়ালিউল ইসলামকে সাধারন সম্পাদক হিসেবে উপস্থিত শিক্ষকদের কমিটি প্রকাশ করে। বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি রাজাপুর উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দদের বাদ দিয়ে একটি রেজিস্ট্রেশন বিহীন সমিতির পকেট কমিটি করায় স্পষ্টই প্রমান হলো যে, রাজাপুরের সকল প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠন একতাবদ্ধ হয়নি। রেজিস্ট্রেশন বিহীন পকেট কমিটির এহেন মিথ্যা কথা প্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সাথে বুদ্ধিদাতা এক প্রধান শিক্ষকের বাসায় বসে গঠন করা পকেট কমিটি আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করলাম। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির রাজাপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এ.কে আজাদ, সিনিয়র সহ সভাপতি সমীর কুমার দাস, অর্থ সম্পাদক রেজাউল করিম মাসুম, সমবায় বিষয়ক সম্পাদক মাহে আলম মুন্সি, সহ সম্পাদক অহিদুজ্জামান, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক উম্মে ফারজানা প্রমুখ।
আলমগীর শরীফ, ঝালকাঠি।

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৪