ঢাকা   ১৯শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ । ৪ঠা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

নিজস্ব অনুভূতি

প্রতিবেদকের নাম
  • প্রকাশিত : সোমবার, মে ২৭, ২০২৪
  • 99 শেয়ার

কলমে: এমি জান্নাত

প্রতিদিন সকালে কলিজা ছিঁড়ে যাওয়ার অনুভূতি নিয়ে যখন নিজের জীবনের পুরোটাই বাসায় রেখে বের হই অফিসের জন্য, মাথায় শুধু এটুকুই থাকে আমার কাজটা ঠিকভাবে করতে হবে আর আমার পাখিটা ঠিক আছে তো!

ও যখন প্রতিদিন বের হওয়ার সময় আমাকে জড়িয়ে কাঁদতে কাঁদতে অসংখ্যবার বলে ‘মাম্মা আমাকে রেখে যেও না!’ বুকে জড়িয়ে চোখে কি পড়লো ভাব করে বেরিয়ে আসি! যারা আমাকে কাছ থেকে জানেন, চেনেন—তারা এটা জানেন সাংবাদিকতা আমার প্যাশনের পর প্রফেশন। আমি আমার কাজের ব্যাপারে কিছুই ছাড় দিই না যতক্ষণ না নিজের কাছে মনে হয় সর্বচ্চটা দিতে পারছি।

পাশাপাশি লেখালিখি ছাড়াও অনেকগুলো কাজের সঙ্গে যুক্ত আছি। আমার কাজকে আমি ভালোবাসি। সম্মান করি। তাই দিন-রাতের ফারাকটাও নেই আমার কাছে। এখন অনেকেই বলবেন কলিজা ছিঁড়ে যায়, তো কাজ করেন কেন! বলেছেনও! সেই জবাবদিহি আমি দিবো না। এটুকু বলতে পারি পুরো পৃথিবীটা ঘিরেই যখন সন্তান, তখন তার জন্য সব কিছু করা যায়।

এর বাইরে যেটুকু সময় সেটুকুতে বাইরে কোথাও বসার ফুসরত মেলে না কাজের কিছু না হলে। আমি গল্প প্রিয়, ভালো শ্রোতাও। কখনো কখনো ইচ্ছে হয় কাছের কারও সাথে মন খুলে কথা বলতে। কিন্তু সেই ইচ্ছে সন্তানের কাছে ছুটে যাওয়ার চেয়ে কখনোই বেশি না। যারা সত্যিই কাছের তারা বুঝবেন, কেন আমি আলাদা করে সময় পাই না— এটা আমি বিশ্বাস করি।

তবুও যেটুকু পারি চেষ্টা করি, দেখা না হলেও ফোনে যোগাযোগটুকু রাখতে। এটা শুধুই খুব কাছের কিছু মানুষের জন্য। কিন্তু বিশ্বাস করেন, স্বল্প পরিচিত অথবা সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচিত কারও সঙ্গে দুমিনিট বসে শুধু অহেতুক গল্প করার জন্য চা-কফি-ঠান্ডা খাওয়ার সময় আমার কাছে সত্যিই নেই। কারণ সেই ইচ্ছেটাও আমার সুনির্দিষ্ট কিছু মানুষের জন্য বরাদ্দ থাকে। সেটাও খুব একটা কাজের বাইরে না। অনেক সময় কাছের কারও সাথেও ঠিকঠাক রেসপন্স করার সুযোগ মেলে না। আমার এই অপারগতা মাফ করবেন।

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৪