ঢাকা   ১৩ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ । ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
আসন্ন ঈদ উপলক্ষে ময়মনসিংহ শিল্প পুলিশ শিল্পাঞ্চলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বদ্ধপরিকর বিজিবির উত্তর-পশ্চিম রিজিয়ন আন্তঃব্যাটালিয়ন কারাতে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত নাগরপুরে অনুষ্ঠিত হলো বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্ট’২৪ বড়ইতলা নদীর উপর ব্রিজ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন চাঁপাইনবাবগঞ্জে পাট চাষি সমাবেশ-২০২৪ পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দেশ প্রিয় পত্রিকার চট্টগ্রাম বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান পাবনায় শিশু পরিবারের শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতে করণীয় শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত এস এস সি পরীক্ষার্থী জিপিএ ৫ প্রাপ্তদের মধ্যে পনেরো হাজার টাকা বিতরণ মাদারীপুর জেলা শিবচরে খামারে আগুন, ১৩ গরু, সাড়ে ৩ হাজার মুরগি পুড়ে ছাই নীলফামারীতে যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

নওগাঁর ১১ টি উপজেলায় মধ্য ৬ টি ইউএনও, অতঃপর ৪ টি এসিল্যান্ড পদে আছেন নারী

প্রতিবেদকের নাম
  • প্রকাশিত : শনিবার, মার্চ ৯, ২০২৪
  • 39 শেয়ার

উজ্জ্বল কুমার সরকার, নওগাঁ প্রতিনিধি:

উত্তরের কৃষি সমৃদ্ধ জেলা নওগাঁ ১১টি উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ জেলায় রয়েছে ছয়টি সংসদীয় আসন। উপজেলা প্রশাসনের সবচেয়ে বড় পদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। এরপরই সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড। জেলার ১১ উপজেলার মধ্যে ছয়টিতে রয়েছেন নারী ইউএনও। চার উপজেলায় এসিল্যান্ড হিসেবে কর্মরত আছেন নারী। কাজের মান একটু কমবেশি হলেও, সব কর্মকর্তাই সমানতালে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। উপজেলা প্রশাসনের সবচেয়ে বড় চেয়ারে বসে করে যাচ্ছেন দৈনন্দিন কাজকর্ম, আলো ছড়াচ্ছেন এসব নারী ইউএনওরা। লাল সবুজের পতাকা হাতে, উন্নয়ন আর অগ্রগতির দিকে এগিয়ে নিচ্ছেন নিজের কর্মক্ষেত্র এলাকাকে। নারীর মমতায় গড়ে তুলেছেন জনবান্ধব প্রশাসন। সব মিলিয়ে এই নারী কর্মকর্তারা সময়ের সঙ্গে আরও উজ্জ্বল হয়ে জ্বলছেন। মেধা, দক্ষতা ও চ্যালেঞ্জ গ্রহণের পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা ও স্থানীয় সরকারের জন প্রতিনিধিত্বে পুরুষদের সমানতালে এখন নারীদের পদচারণা। রীতিমতো পুরুষদের পেছনে ফেলেই নারীদের এই এগিয়ে চলা। জেলার বৃহত্তম উপজেলা মান্দায় গত বছরের ৪ এপ্রিল ইউএনও হিসেবে যোগদান করেন মোসা. লায়লা আঞ্জুমান বানু। বিসিএস ৩৪ ব্যাচের এই কর্মকর্তা এর আগে সহকারী কামশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন ঢাকা কমিশনার অফিসে। পাশ্ববর্তী নাটোরের বাগাতিপাড়ায় বেড়ে ওঠা এই সাহসী কর্মকর্তা গত ২৪ জানুয়ারি বিকেল ৪টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত উপজেলার পরানপুর ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া গ্রামে অভিযান পরিচালনা করেন। সেখানে মনছুর আলী নামে এক ব্যক্তি লাইসেন্সবিহীন গুদামে অবৈধভাবে প্রায় কোটি টাকার খাদ্যসামগ্রী মজুতের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ—- আদালতের মাধ্যমে খাদ্যসামগ্রী জব্দ এবং মাসুদ রানা নামে একজনকে আটক করেন।

লায়লা আঞ্জুমান বানু বলেন, ‘এটা নিশ্চই আমাদের জন্য সৌভাগ্যের। অসহায় নারীরা যখন বিশ্বাস নিয়ে আমাদের কাছে আসেন। আপন মনে করে সব সমস্যার কথা খুলে বলেন, ভরসা করেন ন্যায়বিচার পাওয়ার। তখন একজন নারী কর্মকর্তা হিসেবে প্রশান্তি পাই, সব পরিশ্রম সার্থক মনে হয়।’

আত্রাই উপজেলায় সঞ্চিতা বিশ্বাস, রাণীনগরে উম্মে তাবাসসুম, বদলগাছীতে মোছা. আতিয়া খাতুন, ধামইরহাটে আসমা খাতুন এবং পত্নীতলা পপী খাতুন ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।আত্রাই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্চিতা বিশ্বাস গত বছরের ১০ আগস্ট এই পদে যোগদান করেন। উপজেলাবাসীকে কাছে টেনে নিয়েছেন তিনি। সেখানকার সব মহলে তার নামটি শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হচ্ছে। রাণীনগর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে উম্মে তাবাসসুম গত বছরের ১৯ নভেম্বর যোগদান করেন। বর্তমানে তিনিও সমান তালে করে যাচ্ছেন কাজ।বদলগাছী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন তৃপ্তি কণা মণ্ডল। তিনি গত বছর ৭ ডিসেম্বর সেখানে যোগদান করেন। সম্প্রতি এডিসি হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে আজ ৮ এপ্রিল জয়পুরহাট জেলায় যোগদান করছেন। তার জায়গায় উপজেলার সরকারি কমিশনার (ভূমি) মোছা. আতিয়া খাতুন ভারপ্রাপ্ত উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।ধামইরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে আসমা খাতুন গত মাসে যোগদান করেন আসমা খাতুন। তিনি বলেন, ‘অনেকেই মনে করেন, নারী কর্মকর্তা মানেই এক ধরনের দুর্বলতা। কিন্তু আমি মনে করি, নারী কর্মকর্তা মানেই একটি ইতিবাচক ও শক্তিশালী শব্দ।’

পত্নীতলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে মাত্র কয়েক মাস আগে যোগদান করেন টুকটুক তালুকদার। তিনি এর আগে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি এডিসি হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন।নেত্রকোনা সদর উপজেলায় বেড়ে উঠা ৩৩ ব্যাচের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘যখন আমি প্রথম যোগদান করি, আমাদের সমাজব্যবস্থার প্রেক্ষিতে তখন হয়তো অনেকেরই প্রশ্ন ছিল, মেয়ে মানুষ কাজগুলো পারবো কি না। আমার বিশ্বাস, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব উত্তর হয়তো তারা পেয়ে গেছেন। কারণ আমরা নারীরাও পারি।’ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে ৬ নারীর পাশাপাশি ৪ সহকারী কমিশনার (ভূমি) হলেন, সাপাহারের শারমিন জাহান লুনা, ধামইরহাটের মোসাম্মৎ জেসমিন আক্তার, বদলগাছির মোছা. আতিয়া খাতুন এবং মহাদেবপুরে সহকারী কমিশনার ভূমি হিসেবে কর্মরত আছেন রিফাত আরা। নওগাঁর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মিল্টন চন্দ্র রায় বলেন, সংবিধানের ১৯(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করার বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ। সাংবিধানিক এই অঙ্গীকারের মাধ্যমে বাংলাদেশ নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিতের ক্ষেত্রে ইতোমধ্যেই অনুকরণীয় হিসাবে স্বীকৃত হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘নারীর ক্ষমতায়নের অন্যতম অনুসঙ্গ হলো- প্রজাতন্ত্রের কর্মে বিশেষ করে প্রশাসনে নারীদের অংশগ্রহণ। বাংলাদেশে প্রজাতন্ত্রের কর্মে ৩৮ শতাংশের অধিক সংখ্যক নারীদের অংশগ্রহণ রয়েছে। নওগাঁ জেলায় এই মুহূর্তে ৬ জন ইউএনও ও ৪জন এসিল্যান্ড তাদের যোগ্যতা, মেধা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৪