ঢাকা   ১৯শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ । ৪ঠা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

নওগাঁর মহাদেবপুরে পাওনা টাকা ফেরতসহ প্রতারক ওসমান গণিকে আটকের দাবি ও ব্যবসায়ীদের ৩৫ কোটি টাকা আত্নসাতের চেষ্টা বিরুদ্ধে মানববন্ধন

প্রতিবেদকের নাম
  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, জুলাই ৯, ২০২৪
  • 7 শেয়ার

উজ্জ্বল কুমার সরকার,  নওগাঁ প্রতিনিধি:

 

নওগাঁর মমহাদেবপুরে ওসমান হএ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ (প্রা.) লিমিটেডের চেয়ারম্যান ওসমান গণির বিরুদ্ধে ধান ব্যবসায়ী ও কৃষকদের প্রায় ৩৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ভূক্তভোগীদের অভিযোগ চাল ব্যবসায়ী ওসমান গণি নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণার অজুহাতে আমাদের টাকা আত্মসাৎ করার চেষ্টায় রয়েছেন। ফলে তিনি কৌশলে অর্থ আত্মসাৎ করে আত্মগোপনে রয়েছেন। সেই জন্য তাদের নায্য টাকা ফেরত ও প্রতারক ওসমান গণিসহ অন্যদের বিচার দাবি জানিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার ৯ জুলাই দুপুর ১২টার দিকে পাওনাদাররা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে ‘ভুক্তভোগী সকল পাওনাদারের’ ব্যানারে মানববন্ধন করেছেন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি একটি কোম্পানিকে ভাড়া দিয়ে পরিবারসহ ঢাকায় অবস্থান করছেন ওসমান গণি। এদিকে অভিযোগকারী ব্যবসায়ীরা টাকা না পেয়ে হন্যে হয়ে ঘুরছেন। পরে ভুক্তভোগীরা ওসমান গণির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে তাদের টাকা ফেরতের দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারক লিপি দেন। মানববন্ধনে আড়তদার আবু আহসান হাবিবের সভাপতিত্বে আরেক আড়তদার সামিউল আলম, ইমতিয়াজ হোসেন সরদার, তোতাবাবু, আব্দুল মাজেদ, আব্দুল্লাহ আল মাসুদ মোল্লাসহ বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী ও অভিযোগকারী কৃষকরা বক্তব্য রাখেন। মানববন্ধনে প্রায় আড়াই শতাধিক ব্যবসায়ী ও কৃষকরা অংশগ্রহণ করেন। ভুক্তভোগি ব্যবসায়ী ও কৃষক সূত্রে জানা যায়, নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার নওগাঁ-মহাদেবপুর সড়কের আখেড়া এলাকায় ওসমান গণি গত প্রায় ৪০ বছর আগে চালকল গড়ে তুলে ব্যবসা শুরু করেন। পর্যায়ক্রমে চালকলটি অটোমেটিকে রুপান্তর করে ওসমান এ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ (প্রা.) লিমিটেড নাম দেন। যেখানে কয়েক একর জায়গার ওপর পাঁচটি ইউনিট গড়ে তোলেন। ধানের আড়ৎদারদের কাছ থেকে নগদ ও বাকিতে ধান কিনে চালকল পরিচালনা করা হতো। এতে ব্যবসার সুবাদে আড়তদারদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে ওঠে। এভাবে জেলা ও জেলার বাহিরের প্রায় ২৬০ জন ধান ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নগদ ও বাকিতে ধান কিনতেন তিনি।

একপর্যায়ে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা ধান ব্যবসায়ীদের কাছে বকেয়া রাখেন। কিন্তু তিনি টাকা না দিয়ে লাপাত্তা হয়ে হঠাৎ করে নিজেকে দেউলিয়া দাবি করেছেন । অথচ রাজধানীরসহ বিভিন্ন জায়গায় তার সম্পদের পাহাড় রয়েছে। পাওনা টাকা না পেয়ে ১৫ জন ব্যাবসায়ী দেনার দায়ে হৃদ স্টোক করে মারা গেছেনে, অনেকে অসুস্থ ও হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে, । তাই অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে পাওনাদারদের টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি জানান প্রশাসনের কাছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, গত তিন থেকে চার মাস ধরে ধান ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ওসমানের দূরত্ব বাড়তে থাকে এবং টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়। তিনি পরিবারসহ ঢাকায় অবস্থান করতে থাকেন। গোপনে তার প্রতিষ্ঠানটি একটি কোম্পানির কাছে ভাড়া দিয়ে দেন। পত্নীতলা উপজেলার আব্দুল মাজেদ পাবেন ৯ লাখ টাকা। তার মতো মহাদেবপুর উপজেলার আব্দুল জব্বারের পাওনা ১ কোটি ৩০ লাখ এবং মাতাজি হাট এলাকার মোল্লা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকার সামিউল আলম পাবেন এক কোটি ৩৯ লাখ টাকা। তারা বলেন, ‘গত কয়েক বছর থেকে ওসমান গণিকে ধান দিয়ে আসছি। নগদ ও বাকিতে ধান দিতাম। এভাবে ধান দিতে দিতে ওসমান গণি এক পর্যায়ে টাকাগুলো বাঁকি রাখতে শুরু করে। পরে আমাদের টাকার পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। পাওনা টাকা চাওয়া হলে বিভিন্ন বাহানা শুরু করেছে। আমাদের মতো ২৬০ জন ব্যবসায়ীর প্রায় ৩৫ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। আমরা এখন পথে পথে ঘুরছি।’তাদের মতো পাওনা এক কোটি ৭১ লাখ টাকা ফেরতের দাবিতে এসেছেন জয়পুরহাট জেলার মেসার্স রাসেল ট্রেডার্সের স্বত্ত্বাধিকারী তোতাবাবু ও দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট এলাকার আব্দুল্লাহ আল মাসুদ মোল্লা। তার পাওনা ৭৮ লাখ টাকা উল্লেখ করে তারা একসাথে বলেন, আমরা সরল বিশ্বাসে ওসমান গণিকে বাঁকিতে ধান দিতাম। কিন্তু তিনি এভাবে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে আমাদের টাকা আত্মসাৎ করবে এটা আমরা ভাবতে পারছিনা। আমাদের প্রতিদিন এখানে আসা সম্ভব না। তাই আপনাদের মাধ্যমে আমরা পাওনা টাকা ফেরতসহ তাকে আটকের জোর দাবি জানাচ্ছি। আব্দুল ওহাব মোল্লা ও জিন্নাত হোসেন নামের দুই ভুক্তভোগি বলেন, ওসমান গনী আমাদের সাথে প্রতারণা করেছেন। তার কাছে আমরা বেশ কয়েক জন ব্যবসায়ী ও কৃষকরা প্রায় ৩ কোটি টাকা পাই। কিন্তু আমাদের কোনো টাকা ফেরত দিচ্ছেনা। তার কঠিন শাস্তির দাবি করছি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহাদেবপুর উপজেলার ওসমান অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান ওসমান গণি জানান, ‘প্রায় ৩৮ বছর থেকে ব্যবসা করছি।

ব্যবসার সুবাদে অনেক টাকা লোকসান হয়েছে। এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের কাছেও আমার দেনা রয়েছে। আমার কাছে নগদ টাকা নাই। পাওনাদারদের বলেছি যে সম্পদ আছে, তা বিক্রি করে দেনা পরিশোধ করা হবে। নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করার জন্য আদালতে একটি আবেদন করেছি, তবে আমি আমার প্রতিষ্ঠানটি ভাড়া দিয়েছি। এর বেশি কিছু বলতে চাইনা। জেলা প্রশাসক মো.গোলাম মওলা বলেন, ভুক্তভোগি ব্যবসায়ী ও কৃষকরা একটি স্বারকলিপি দিয়েছেন। আমরা আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৪