ঢাকা   ১৯শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ । ৪ঠা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

ধুনটে মাদক ব্যবসায়ী কামাল পাশা ও শিপনের অত্যাচারে কোনঠাসা এলাকাবাসী ভিআইপিদের সাথে ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট

প্রতিবেদকের নাম
  • প্রকাশিত : শুক্রবার, জুন ২১, ২০২৪
  • 121 শেয়ার

সুমন হোসেন, ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি:

 

কামাল পাশা, বাবার নাম ইসাহাক উদ্দিন। বাড়ি উপজেলার বিষ্ণপুর গ্রামে। সে এলাকার কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। একাধিকবার মাদকদ্রব্যসহ পুলিশের হাতে ধরা পড়েছিল এবং পুলিশের খাতায় তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী। এই মাদক ব্যবসায়ী কামাল পাশার অত্যাচারে পুরো এলাকাবাসী অতিষ্ট। প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করার কারনে এলাকায় উঠতি বয়সি যুবকেরা মাদকের দিকে দিন দিন আকৃষ্ট হচ্ছে। ফলে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছে।

সরজমিনে অনুসন্ধানে জানা গেছে, কামাল পাশার ছোট ভাই শিপন শেখ নিজেও একজন ইয়াবা বিক্রেতা। বিগত ৩ বছর আগে মথুরাপুর এলাকায় ইয়াবা বিক্রির অভিযোগে স্থানীয় কুলি শ্রমিকদের গন ধোলাই খেয়ে এলাকা ত্যাগ করে। এর পর থেকে নিজেকে ভালো মানুষ হিসেবে জাহির করতে এলাকার কিছু ভিআইপি ব্যাক্তি বিশেষের সাথে ছবি উঠিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছাড়িয়ে দেয়। ভিআইপি ব্যাক্তি বিশেষের সাথে সখ্যতার কারনে এলাকার অনেকেই শিপনের ভয়ে তটস্থ থাকে। গ্রামবাসী জানায়, শিপন এবং তার ভাই কামাল পাশা উভয়ই মাদক ব্যবসায়ী। নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা করতে  সুচতুর শিপন শেখ নানা কৌশল অবলম্বন করে। এলাকাবাসীর ধারনা শিপন শেখ মাদক ব্যবসার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভিআইপিদের সাথে নিজের ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে। গোপন সূত্রে জানা গেছে, কামাল ও শিপন ভারতীয় সিমান্ত এলাকা থেকে ফেন্সিডিল, গাঁজা ও ইয়াবা চোরাই পথে বহন করে বিষ্ণপুর গ্রামে আনার পর সেখান থেকে তার নিজস্ব কতিপয় লোকের মাধ্যমে পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিষ্ণপুর গ্রামের কয়েকজন ব্যাক্তি জানান, শিপন ও কামালের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস কারো নেই। সম্প্রতি জবাবদিহি পত্রিকায় কামালের মাদকদ্রব্য বিক্রির তথ্য বহুল একটি সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় কামাল ও শিপন ক্ষিপ্ত হয়ে জবাবদিহি পত্রিকার স্থানীয় প্রতিনিধি সুমন হোসেন কে মারধর করে। সাংবাদিক সুমন এ বিষয়ে ধুনট থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করছে।

থানা সূত্রে জানা গেছে, কামাল পাশা ও শিপনের বাবা ইসাহাক উদ্দিন ছিলেন একজন মূর্তি ব্যবসায়ী। সে সিমেন্টের মূর্তি তৈরী করে কুষ্টিপাথরের মূর্তি বলে জালিয়াতির মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিতো।  ইসাহাক উদ্দিন কে মূর্তি বিক্রির সময় ১৯৯৭ সালে পুলিশ মূর্তিসহ তাকে গ্রেফতার করেছিল। এ বিষয়ে ধুনট থানার তৎকালিন এসআই সুবল চন্দ্র বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছিল।

ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সৈকত হাসান জানান, কামাল পাশা পুলিশের পিসিপিআর এ তালিকা ভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী। ইতি পূর্বে মাদকদ্রব্য সহ একাধিকবার গ্রেফতার করা হয়েছিল। কামাল পাশা কে গ্রেফতার করতে পুলিশি অভিযান অব্যহত আছে এবং শিপন শেখ পুলিশী নজরদারিতে আছে।

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৪