ঢাকা   ২১শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ । ৭ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
কুমিল্লায় মনোহগরঞ্জ থানা ছিনতাইকৃত আসামী গ্রেফতার মায়ের সাথে অভিমান করে কলেজ ছাত্রীর আত্মহত্যা নরসিংদীর নজরপুরে উপজেলা নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় আহত- ২০ গোপালগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ ভূমধ্যসাগরে মৃত ১১ জনের মধ্যে ০২ জনের বাড়ি মাদারীপুরে নীলফামারীর বাসীদের সচেতন হওয়ার প্রয়োজন নওগাঁ সিদ্দিকিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা ৫০ বছর পূর্তি ও পূর্ণমিলনী অনুষ্ঠান চট্টগ্রাম বিভাগ সহ সারা বাংলাদেশ ৫/৭ জেলায় দেখা মিলল এই রাসেল ভাইপার সাপ ভোলার শশীভূষণে বজ্রপাতে এক শ্রমিকের মৃত্যু মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখায় জেলা প্রশাসকের বন্যার্তদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

ঝালকাঠিতে রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের ১২৫ তম জন্মবার্ষিকী পালন

প্রতিবেদকের নাম
  • প্রকাশিত : শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৪
  • 232 শেয়ার

ঝালকাঠি প্রতিনিধি-

১৭ ই ফেব্রুয়ারী ২০২৪, রোজ শনিবার দিনব্যাপী আলোচনা, আবৃত্তি, বনভোজন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের ১২৫ তম শুভ জন্মবার্ষিকী যথাযথ মর্যাদায় পালন করা হয়েছে কবির জন্মভূমি ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলা শুক্তাগর ইউনিয়নের পিংড়ী গ্রামের ধানসিঁড়ি নদীর তীরে। জীবনানন্দ দাশ ছিলেন বিংশ শতাব্দীর প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক। তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালের ঝালকাঠির রাজাপুরের বামনখান গ্রামের দাশ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ‘ব্রহ্মবাদী’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। তিনি পেশায় ছিলেন কবি ঔপন্যাসিক গল্পকার প্রাবন্ধিক দার্শনিক গীতিকার সম্পাদক অধ্যাপক, তাঁর বহু লিখনির মধ্যে রয়েছে ঝালকাঠি রাজাপুরর উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বিখ্যাত ধানসিঁড়ি নদী। এই নদীকে নিয়ে লিখা কবিতা- আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে-এই বাংলায় ।

জীবনানন্দের মাতা কুসুমকুমারী দাশ, তিনিও কবিতা লিখতেন। তাঁর সুপরিচিত কবিতা আদর্শ ছেলে (আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড়ো হবে) যা আজও শিশু শ্রেণির পাঠ্য।

জীবনানন্দ দাশ (স্থানীয় শত উর্ধ্বে বয়সী মানুষের ভাষ্যনুযায়ী) ১৯০১ ইং খ্রীস্টাব্দে মাতৃলয় থেকে বাবা মায়ের সাথে বরিশাল চলে যায় এবং বরিশাল ব্রজমোহন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, বি এম কলেজ থেকে আই এ এবং কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ইংরেজিতে অনার্সসহ বি.এ ও ইংরেজিতে এম.এ পাস করেন। আইন কলেজে ভর্তি হলেও শেষ পর্যন্ত তিনি পরীক্ষা দেননি।
জীবনানন্দ কলকাতা সিটি কলেজে ১৯২২ সালে ইংরেজি সাহিত্যে অধ্যাপনা শুরু করেন, ১৯২৯ সালে তিনি সদ্য প্রতিষ্ঠিত বাগেরহাট প্রফুল্লচন্দ্র কলেজে যোগ দেন, কিন্তু কিছুদিন পর চাকরি ছেড়ে কলকাতায় চলে যান ।

জীবনানন্দের কাব্যচর্চার শুরু অল্পবয়স থেকেই। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ঝরাপালক প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
তিনি বাংলা কাব্যে আধুনিকতার পথিকৃতদের মধ্যে অন্যতম। জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যে নজরুল ইসলামের প্রভাব থাকলেও দ্বিতীয় কাব্য থেকেই তিনি হয়ে ওঠেন মৌলিক ও ভিন্ন পথের অনুসন্ধানী। রূপসী বাংলা কাব্যগ্রন্থে যেভাবে আবহমান বাংলার চিত্ররূপ সৌন্দর্য প্রকাশিত হয়েছে তাতে তিনি ‘রূপসী বাংলার কবি’ হিসেবে খ্যাত হয়েছেন। বুদ্ধদেব বসু তাঁকে ‘নির্জনতম কবি’ এবং অন্নদাশঙ্কর রায় ‘শুদ্ধতম কবি’ অভিধায় আখ্যায়িত করেছেন। জীবনানন্দ দাশ ছিলেন একজন কালসচেতন ও ইতিহাসচেতন কবি।

বিখ্যাত গ্রন্থগুলো: ঝরা পালক , ধূসর পাণ্ডুলিপি, বনলতা সেন, মহাপৃথিবী, সাতটি তারার তিমির, জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা , রূপসী বাংলা, বেলা অবেলা কালবেলা। তিনি ২১টি উপন্যাস এবং ১২৬টি ছোটগল্প রচনা করেছিলেন। সাহিত্য কর্মের জন্য কবি জীবনানন্দ দাশ রবীন্দ্র-স্মৃতি পুরস্কার ১৯৫২সালে, সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার ১৯৫৪ পান।জীবনানন্দ দাশ ১৯৫৪ সালে কলকাতায় এক ট্রাম দুর্ঘটনায় আহত হন, পরে ২২ অক্টোবর ১৯৫৪ ইং খ্রীস্টাব্দে মারা যান।

এই দিনটি দীর্ঘদিন যাবত ঝালকাঠি জেলার ও রাজাপুরের সকল কবি সাহিত্যিক, মিডিয়াকর্মী, সুধী সমাজ ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সহযোগিতায় যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “কবিতা চক্র” ঝালকাঠি, “ছালমা শিল্পীগোষ্ঠী” রাজাপুর, “ভরসা নৃত্য একাডেমি” রাজাপুর ও “সাংবাদিক ক্লাব” রাজাপুর কবির জন্ম ও মৃত্যু বার্ষিকী যথাযথ মর্যাদায় পালন করে আসছেন। বিশেষ করে লেখক মুঃ আল আমিন বাকলাই, সাংবাদিক আলমগীর শরীফ, সাংবাদিক আঃ রহিম রেজা, কন্ঠশিল্পী ছালমা বেগম, জয়ীতা সাবিনা ইয়াসমিন, সাংবাদিক মিরাজ খান ও সাংবাদিক ইয়াসিন খানসহ আরো অনেকে দায়িত্ব পালন করে আসছেন ।

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৪