ঢাকা   ৮ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ । ২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
১০ ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নিলেন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের অভিযানে তাহিরপুরে ৭দোকানদার কে ১১হাজার ৫শ টাকা জরিমানা এনপিএসের ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে সম্মাননা স্মারক পেলেন সাংবাদিক বিশ্বজিৎ চন্দ্র সরকার শিবগঞ্জ সীমান্তে ৬টি ভারতীয় চোরাই মোবাইলসহ আটক- ০১ নওগাঁ পুশিল সুপারের নির্দেশনায় পৃথক অভিযানের ৮ জনকে মাদকসহ আটক বিলাইছড়ি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভা নড়াইলে ৩ বন্দু ডাব খেতে যেয়ে এক বন্দু মৃত্যু। মোরেলগঞ্জে এ সি লাহা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানির সেমিনার অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রামে হাজীদের নিয়ে গঠিত ‘যিয়ারাতুল হারামাইন’ সংগঠনের প্রথম বছর পূর্তি পালিত মালামাল আত্মসাৎ করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

গ্রাম বাংলার পল্লীকবি জসীমউদ্দিন এর প্রয়াণ দিবস আজ

Dainik Muktir Songbad
  • প্রকাশিত : বুধবার, মার্চ ১৩, ২০২৪
  • 104 শেয়ার

উজ্জ্বল কুমার সরকার, নওগাঁ প্রতিনিধি: 

আজ পল্লীকবি জসীমউদ্দীন এর প্রয়াণ দিবস। তিনি ১৩ মার্চ ১৯৭৬ সালে প্রয়াত হন। তাঁর অন্তিম ইচ্ছেতে ১৪ মার্চ ফরিদপুরের অম্বিকাপুর গ্রামে তাঁর দাদীর কবরের পাশে কবর দেওয়া হয়। পিতা আনসারউদ্দীন মোল্লা ফরিদপুর শহরের হিতৈষী পাঠশালার শিক্ষক ছিলেন। জসীমউদ্দিনের ছাত্র জীবনে কবি প্রতিভার বিকাশ ঘটে। তিনি পল্লিকবি বলে খ্যাত। তাঁর রচিত ‘কবর’ এক অসাধারণ খ্যাতি অর্জন করে। তিনি কবিতার পাশাপাশি গান, উপন্যাস, নাটক ও ভ্রমণকাহিনী প্রভৃতি রচনা করেন। জসীমউদ্দীন আবহমান বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে লালিত এক আধুনিক কবি। ঐতিহ্যবাহী বাংলা কবিতার মূল ধারাটিকে নগরসভায় নিয়ে আসার এক অসামান্য কৃতিত্ব জসীমউদ্দীনের। তাঁর নক্সী কাঁথার মাঠ ও সোজন বাদিয়ার ঘাট বাংলা ভাষার গীতিময় কবিতার উৎকৃষ্টতম নিদর্শনগুলোর অন্যতম। পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় তাঁর কবিতা অনূদিত হয়েছে।

পল্লীকবি জসীমউদ্দীন এর জন্ম : ১ জানুয়ারি ১৯০৩ সালে মাতুলালয়ের তাম্বুলখানা গ্রামে। তাঁর জন্ম জেলা ফরিদপুর এবং মৃত্যু ঢাকাতে। তিনি যে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেন : মেট্রিক ফরিদপুর জেলা স্কুল, আই. এ এবং বি.এ ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজ এবং এম. এ (বাংলা ভাষা ও সাহিত্য) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। তিনি এম.এ তে পড়ার সময় ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আনুকূল্যে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পল্লীগীতি সংগ্রাহক নিযুক্তি লাভ করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাবলি : নক্সী কাঁথার মাঠ, সোজন বাদিয়ার ঘাট, বালুচর, হাসু, বেদের মেয়ে, মধুমালা, বোবা কাহিনী, পদ্মাপাড় রঙ্গিলা নায়ের মাঝি ও গাঙ্গের পাড় প্রভৃতি। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। পরবর্তীতে তিনি ১৯৪৪ সালে বঙ্গীয় প্রাদেশিক সরকারের পাবলিসিটি বিভাগের কর্মকর্তা নিযুক্ত হন। তিনি পরে পূর্ব পাকিস্তান সরকারের প্রচার বিভাগের Additional Song Publicity Organiser পদে যোগদান করেন এবং ১৯৬২ সালে ডেপুটি ডাইরেক্টর পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। জসীমউদ্দিন প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তি ছিলেন।

ষাটের দশকে পাকিস্তান সরকার রেডিও ও টিভিতে রবীন্দ্রসঙ্গীত প্রচার বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তিনি সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান। জসীমউদ্দীন বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডিলিট ডিগ্রি পান। তিনি বিভিন্ন পদক ও পুরষ্কারে ভূষিত হন। তারমধ্যে উল্লেখ্য একুশে পদক (১৯৭৬)। মা আমিনা খাতুন ওরফে রাঙাছুট এবং আনসারউদ্দীন মোল্লার কৃতি সন্তান আমদের এই জসীমউদ্দিন। আজ তাঁর নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আবাসিক হল করা হয়েছে। আজ তাঁর প্রয়াণ দিবসে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ

© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৪